আমার ভালো থাকা

আমার কাছে ভালো থাকা বা প্রেমের অর্থ বিয়ের পর সঙ্গীর সাথে পটয়া বা সুইজারল্যান্ডে হানিমুন নয়। আমার কাছে ভালো থাকা বা প্রেমের অর্থ জীবনসঙ্গীর সাথে এমন জায়গায় যাওয়া কোন পাহাড়ি যেখানে কারেন্ট নেই, তাই পড়াশোনার জন্য ছেলেমেয়েদের হ্যারিকেন কিনে দেওয়া।

আমি খুব অর্থ লোভী আমার কাছে ভালো থাকা মানে প্রচুর ব্যাঙ্ক ব্যালান্স নয়, আমার কাছে ভালো থাকা মানে জীবনসঙ্গীর সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে ছোট বাচ্চাদের বই, খাতা কিনে দেওয়া।

আমি খুব অর্থ লোভী, আমার অর্থ উপার্জন যেনো লাক্সারি দেখানো না হয়। আমার অর্থ উপার্জন মানে ১৫-২০-৫০ লাখ বা এক কোটির গাড়ি চড়া নয়, আমি খুব সাধারণ ভাবে বড় হওয়া একটা মেয়ে, যে চোখের সামনে বাবাকে গাড়ি কিনতে, বাড়ী বানাতে দেখেছে। তাই আজো গাড়ি না চলে পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করি।

তাই চলন সই গাড়ি যথেষ্ট, এক কোটির গাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকলে ঐ টাকায় অনেক গাড়ি কিনে প্রত্যন্ত জায়গায় পাঠাবো যেখানে অনেক ছেলেমেয়ে গাড়ি করে স্কুলে গিয়ে তাদের পড়াশোনা করতে পারবে।

আমার কাছে উপার্জিত অর্থে লাক্সারি দেখিয়ে জীবন সঙ্গীর সাথে বিদেশ ভ্রমণ করে ফেসবুকে দিয়ে যুবসমাজের আইডল হওয়া নয়। আমার কাছে উপার্জিত অর্থে দেশের প্রত্যন্ত জায়গায় জীবনসঙ্গীর ভ্রমণ করে আমাদের দেশে ছোট ছোট ছেলে মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া।

আমার কাছে অর্থ উপার্জন , ভালোলাগা, ভালোবাসা , প্রেম মানে জীবনসঙ্গীর হাতে হাত রেখে ফুটানি দেখানো নয়। আমার কাছে এসবের অর্থ জীবনসঙ্গীর হাতে হাত রেখে মানুষের জন্য লড়ে যাওয়া।

আমার কাছে জীবনের অর্থ হয় এইরকম ভাবে অগনিত ছেলে মেয়ের মা হয়ে ওঠা, মা বা বাবা হারা সন্তানদের ভরসার কোল হওয়া , নয়তো বৈরাগ্য লাভ করে সেই সব সর্বহারা সন্তানদের ভরসার কোল দেওয়া।

আমার জীবনের উদ্দেশ্য নিজের জন্য ডলার কামিয়ে ফুটুনি নয়, আমার কাছে জীবনের উদ্দেশ্য উপার্জিত টাকায় অনেক ছেলে মেয়েকে তৈরি করা। আমার জীবনের উদ্দেশ্য নর এর মধ্যে নারায়ণ খুঁজে আনন্দ করা।

আমার জীবনে প্রেম, ভালোবাসা মানে জীবনসঙ্গীর সাথে বড় রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া নয়। একশোটা ছেলে মেয়ের সঙ্গে মাটিতে বসে খাওয়া। না আমি মা সারদা, মাদার তেরেসা হওয়া বা মা মেরি হবো না, কিন্তু, তাঁদের দেখানো পথে চলাটাই জীবনের উদ্দেশ্য।

জীবনে এইটাই আমার ভালো থাকা, জীবনের এই লড়াইয়ে কখনো জিতেছি ছোট ছোট পদক্ষেপে, অসম্ভব আনন্দ পেয়েছি যখন উল্টোদিকে মানুষটা হেসেছে আনন্দ পেয়েছে বা জড়িয়ে ধরে কেদে ফেলেছে।

আমিও কেদেছি তাদের সাথে, বার বার ধন্যবাদ দিয়েছি এই জীবনকে। প্রণাম জানিয়েছি আমার বাবা মা, শিক্ষা গুরু, দীক্ষাগুরু কে। অনেক সময় মানুষ হওয়া আর মানুষ করার এই যুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে গিয়ে হোচট খেয়েছি।

ভেঙ্গে পড়েছি, খুব কষ্ট পেয়েছি তখন কেউ যেনো বার বার মনে করিয়েছে যেন স্বামীজির উদ্দ্যত কণ্ঠ “ভেঙে পরা তোমার জীবন নয় সায়ন্তিকা, তুমি উঠে দাড়াও, এগিয়ে চলো, লক্ষ্য না ছুয়ে থেমো না যেনো।”

জীবনে পেয়েছি এমন অনেক মানুষ যারা ভাবনা চিন্তার ডাইমেনশন ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এখন শুধু ভাবি জীবনে এমন কিছু করতে হবে যেনো অনেক শিশু আমার কাঁধে মাথা রেখে বলতে পারে আমাদের জন্য কেউ তো আছে।

বার বার আমি কৃতজ্ঞ যেসকল মানুষের কাছে তাঁরা হলেন আমার দীক্ষাগুরু শ্রীমৎ স্বামী গিরিশানন্দ জী মহারাজ, আমার বাবা, মা,  সর্বপরি ঠাকুর, মা, স্বামীজি।

Scroll to Top